করোনা ভাইরাস বনাম আমরা

0
120

অঙ্গীকার

করো সবে অঙ্গীকার
লড়াইটা আজ সবার
মনে আনো হার না মানা ইচ্ছে,
ঘরের ভিতরে থাকি,
উঠনের বাইরে না দেখি,
ভুলে যাই জগতে কি ঘটছে।
বন্ধু থাক ফেসবুকে,
হোয়াটস অ্যাপ মেসেজে ঢুকে
করো আজ যতখুশি গল্প,
বেড়িও না বন্ধু,
ছড়িও না বন্ধু,
সময় রয়েছে আর অল্প।
এই কথা মনে রেখো
যদি চাও বেঁচে থাকো
নিজেকে বন্দী করো ঘরেতে,
তুমি যাবে কোথাও না
কেউ ঘরে আসবে না
করোনা কে তবে পারি হারাতে।
লেখক পরিচিতি : শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মুম্বাই

জিতবই ভরসা রেখো

ফেসবুকটা ফেসবুকই থাক
  আস্তাকুঁড় তো আর নয়,
যে যা পারছে পোস্ট,রিপোর্ট
  ছড়াচ্ছে তীব্র আতঙ্ক ভয়।
ফেলো যদি কড়ি ওহে নরহরি
তাবলে যা খুশি পাওয়া যায়?
ধনী-গরীব বিভেদ তুচ্ছ আজ,
  করোনা যে শুধু পিছু ধায়।
মানুষ বাঁচলে তবেই না দেশ,
কিসের এন আর সি-বিভাজন
   বিদ্বেষ ঘৃণা সব ফুৎকারে
বন্ধু হয়ে সরকার তো সুজন।
  চোর গুণ্ডা ধরবে পুলিশ
  এটাই তো নিয়ম জানি।
আড্ডা ফূর্তিতে বাইক রেশ
খুব কি দরকার হয়রানি!
রান্নার দিদি কাজের মেয়েকে
   সবেতনে দিয়ে দিও ছুটি।
ঘর থেকে না বেরুক ওরা
বিপদে পরিবারই শক্ত খুঁটি।
লক্ষ্য একটাই করোনা মুক্তি
ধড়ফড় ছটফট করো না।
বেরুনো যদি খুব দরকারে,
নিও মাস্ক,হাত স্যানিটাইজারে
নিজে বাঁচো অন্যরাও বাঁচুক,
দয়া করে গুজব ছুঁড়ো না।
লেখক পরিচিতি : রাণা চ্যাটার্জী ,বর্ধমান

আক্রান্ত মনের স্বীকারোক্তি

এই স্তব্ধতা,
এই বিবর্ণ বিচ্ছিন্নতা,
দৃষ্টিজোড়া এই অপার হাহাকার-
একি আমাদেরই ‘প্রাপ্য’ নয়?
নয় কি এ আমাদেরই ‘পুরস্কার’?

আমরা কি শুনেছি মাটির কান্না?
শুনেছি কি সবুজের যন্ত্রণা?
শুনেছি কি পাখির আর্তরব?
নাকি আমিত্বের কংক্রিটে চাপা পড়েছে সব?

আমরা শুষেছি,
আমরা পিষেছি,
আমরা নিংড়েছি,
আমরা আরও চেয়েছি;
চাইনি শুধু ‘তার’ শান্তি।

তবু, ‘মানুষের’ মাঝেই ”মানুষ” বাঁচে,
তবু, ‘মানুষের’ মাঝেই ”মানুষ” আছে,
যাদের নিঃশ্বাস আজও পৃথিবীর ক্ষত জুড়ায়;
আমরা সবাই সেই আলোভরা আগামীর আশায়।

লেখক পরিচিতি : – প্রসেনজিৎ মন্ডল, বসিরহাট, পশ্চিমবঙ্গ

 

 

কোরোনার গ্রাস

 

লেখিকা পরিচিতি : ববিতা সরকার (গুহ রায়), ব্যারাকপুর, পশ্চিমবঙ্গ

 

আমি সচেতন নই (ইতালীর জনৈক চিকিৎসকের জবানী)

আমি সচেতন নই
আমি সাবধান নই বিন্দুমাত্র
আমি শঙ্কিত
কিন্তু আতঙ্কিত নই
আমি তোমাদের মতো নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারিনি
বিচ্ছিন্ন রাখতে পারিনি আমার দেশের মৃতপ্রায় ভাই বোনদের থেকে
তাই শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বানকে উপেক্ষা করে
আমি বেরিয়ে এসেছি আমার পেশাগত শৃঙ্খলার প্রমান দিতে
যদিও আমি এখন আর পেশাদার নই
আমি নিযুক্ত নই কোনো দায়বদ্ধতা কিংবা কর্তব্যপরায়নতায়আমি এখন বেকার
পুরানো গাড়ির ইঞ্জিনের মতো বিকল
আমি ইতিমধ্যেই অতিক্রম করে এসেছি
সমস্ত সক্রিয়তা কিংবা স্বীকৃত কর্মক্ষমতার সীমা
আমি নিজেই এখন দুর্বল
নিজেই সকলের চোখে অক্ষম অথর্ব
আমার প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই নগন্য
আমার বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই
আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকহ্যা তোমাদের পরিভাষায় আমি বাতিল
আমারই তো এখন বেশী সচেতন থাকার সময়
সাবধানতার পরিমাপ তো সবচেয়ে বেশী আমার জন্যই
অথচ আমি নিজেকে নিয়ে একেবারেই সচেতন নই
আমি হয়তো একুশের যুবকের থেকেও বেশী হঠকারী

আমি যখন প্রতিদিন ঘরে বসে খবর পাচ্ছি
মুহূর্তে মুহূর্তে বাড়ছে আমার দেশের বিপদ
ঘন্টায় ঘন্টায় বাড়ছে আমার আক্রান্ত দেশবাসীর সংখ্যা
ব্যালকনিতে বসে দেখছি আমার বাল্য বন্ধুর মৃতদেহ
সেনার গাড়ীতে করে বাহিত হয়ে দগ্ধ হচ্ছে
শহর বাইরে কোনো নির্জন প্রান্তরে
অথচ তার শেষযাত্রায় নেই তার পরিজন কিংবা বন্ধু
যখন আমি জানতে পারছি
দেশ আর দেশবাসীর সেবায় নিয়োজিত বছর তিরিশের
তরুন চিকিৎসক ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে
তখন আমি শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে সচেতন থাকি কি করে
স্বার্থপরের মত সাবধনতা তখন আমাকে মানায় না

আমার তো এখন গোধূলীর সময়
কিছুক্ষন পরেই সন্ধ্যে নামবে
তখন হাজারো নক্ষত্রের মাঝে আমার খবর রাখবে না কেউ
তাই জীবন নাটকের এই যবনিকায়
সমস্ত সচেতনতা সমস্ত সাবধনতা ভুলে
গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে
আমি আবার স্বেচ্ছায় বেড়িয়ে পড়েছি কর্তব্যের টানে

আমার দেশ বড়ো বিপদে আছে
আমার দেশবাসী ক্রমাগত কাঁদছে
প্রতেক্যের মনে এখন আতঙ্ক আর ভয়ের ক্ষত
হাজারো হাজারো দেশবাসী যে
আমার অসচেতন অসাবধান হওয়ার অপেক্ষায়
এমন নিদারুণ সময়ে উদাসীনতা আমায় মানায় না
আমি যে ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেলর দেশের নাগরিক

জানি হয়তো মৃত্যু আমাকেও টেনে নিতে পারে নিজের কোলে
আমাকেও যেতে হতে পারে আইসোলেশনে
আমার জন্যও বরাদ্দ হতে পারে নিঃসঙ্গ অন্তিম যাত্রা
আমার কফিনও পাবে না প্রিয়জনের স্পর্শ
কিংবা শেষ শ্রদ্ধার ফুল
তবুও শুধুমাত্র নিজের কথা ভেবে
আজ আমি আর সচেতন থাকতে পারছি না
জীবনে অনেক হিসেব নিকেশ বহু সাবধানে করেছি
উপসংহারের দিনগুলিতে না হয়
একটু বেহিসেবী কিংবা অসাবধানী হলাম

লেখক পরিচিতিকৃষ্ণ বর্মন, পলতা, পশ্চিমবঙ্গ

 

হবোই হবো, করোনা জয়ী

এখন আমরা সবাই সৈন্য, এই  বিশ্বযুদ্ধে সামিল –
জিততে হবে এই মহাযুদ্ধে, তাই দিলাম দরজা খিল।
খুলবো সে খিল হাসিমুখে,আমরা সবাই, একুশ টা দিন পরে –
আসুক করোনা স্পাইক হাকিয়ে, তাকে যেতেই হবে যে ফিরে।

প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী,  করছে লড়াই  মানুষকে ভালোবেসে –
দেখিনি বিশ্বযুদ্ধ আমরা,ভীষন সে আজ “বায়োওয়ারের” বেশে।
যাঁরা দিনরাত এক করে লড়ে, ওই  লড়াইয়ের ময়দানে –
তাঁদের পাশে আজ থাকতেই  পারি , থাকলে ঘরের কোনে।

অনেক তো হলো আড্ডা, ঘোরা , চায়ের দোকানে বসা –
এখন না হয়, থাকলেই ঘরে, সেখানেই গপ্পো, হাসা।
দেশরক্ষার এমন সুযোগ, কেউ তো পাবোনা আর –
“দেশবাসী” শোনো, আর কটা দিন, যেওনা ঘরের বার।

স্পর্শে ছড়ায় করোনা দ্রুত, দুরত্ব তাই, একুশটা দিন রাখো–
বন্ধু, স্বজন যদি ভালোবাসো, তবে নিজে কটা দিন একা থাকো।
ফুটবলে এটি স্ট্রাইকার যে , বল পেলে গোল দিতে শুধু  পারে –
তাই কেটে দাও, সেই “সাপ্লাই চেন”, “স্পর্শবিহীন”, থাকো নিজের ঘরে।।

বিশ্বযুদ্ধে জিতবে ভারত, প্রত্যয় আনো, আবার দেখবে সূর্যোদয় –
করোনার শিকড় এই দেশ থেকে ঠিক উপড়ে দেবো, একতাই বরাভয়।
কাঁদছে  ইতালি, ফ্রান্স, আমেরিকা,জার্মানি, বাতাসে কান্না ভারী-
শুধু কটা দিন  ঘরে থাকি, ঠিক হারাবোই করোনা মহামারি।।

লেখক পরিচিতি : ডাঃ নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here