আজ বছর ২০ পর “অনুতপ্ত “আমি
আমি শুভময় ।
আমি আমার স্ত্রী গার্গী আর আমার একটি ১৯ বছরের মেয়ে এই সংসার ।আমি এখন চাকরি সূত্রে শিলিগুড়ি তে আগে বারাসাত থাকতাম তারপর বাবার চাকরি সূত্রে সল্টলেকে । আমার দশ বছরের পুরোনো ডায়ারিটা হাতে পেলাম ….আমি যখন ক্লাস টেন আমি আমার স্কুলে প্রথম হতাম ।একটি মেয়ে আমাকে খুব পছন্দ করত তার বলা কথায় গল্পের শিরোনাম “অনুতপ্ত”সেদিন …
(মোবাইলে ফোন )
….হ্যালো ,’তুই আমাকে ফেসবুক ব্লক করে দিলি ?আমি এতটাই খারাপ,’
– আমাকে বিরক্ত করবিনা তুই কি সুন্দরী ? আর পড়াশোনা তে তো আমার সমান নস আর কোনোদিন আমার সাথে যোগাযোগ করবি না ভাই( আমি বলেছিলাম)
– ‘বেশ আমি তোকে চ্যালেঞ্জ করলাম একদিন তুই ফেসবুক থেকে নিজে আমাকে আনব্লক করে আমার প্রোফাইল ঘাটবি আর সেদিন তুই অনুতপ্ত হবি ‘
– কি! পাগল নাকি আমি তোর প্রোফাইল ও তাই দিবা স্বপ্ন ! ( বলে কেটে দিলাম )
….আমার বন্ধু দের কাছে শুনেছি লাম সেই অষ্টমীর রাতে ও অনেক কেঁদেছিল …যাইহোক আমি বিষয় টি ভুলেই গিয়েছিলাম কিন্তু সময় তো সব হিসেব করে রাখে
সেদিন অষ্টমীর দিন মেয়ের ঘরে গিয়ে দেখলাম একটি মহিলার ছবি মেয়ের ফোনের কভারে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কে ? বলল- ” বাপি ,আমার অনুপ্রেরণা জানো, তুমি চেনো না ! তুমি সোশ্যাল মিডিয়া খোলো না বেশি চিনবে কি করে ! ইনি আমাদের কলেজের অধ্যাপিকা আর অনেক বড় সেলিব্রেটি। নাম নীলাঞ্জনা ..নামটি শুনে এত ই অবাক হলাম মনে হল এই ভাবে প্রতিশোধ নিল সময় ফেসবুক খুলে ব্লক লিস্টে দেখলাম একটাই নাম আজও আনব্লক করলাম প্রোফাইল দেখলাম ফলোয়ারস হলাম
……সময় আজ আমি অনুতপ্ত ।। আজ আমি অনুতপ্ত সত্যিই …
মোবাইলে বেজে উঠল একটা গান – ” সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা”
কলমে স্বরলিপি দাস