“কি? এটা করে নিজের ভবিষ্যৎ শুধু জানাই যাবেনা বরং ভবিষ্যৎ থেকে সময়ের অভিযাত্রী মানে ভবিষ্যতের আমি এখানে এসে বর্তমানের আমির সাথে কথা বলবে?” কথাটা শেষ করেই হো হো করে হেসে উঠলো জেমস। জেমসকে হাসতে দেখে রবার্ট বলল “এই বইটাতে পরিষ্কার লেখা আছে যে পূর্ণিমার রাতে নিস্তব্ধ জঙ্গলের মাঝে কোন জায়গায় একটা বৃত্ত আঁকতে হবে ঠিক এরকম” বলে বইয়ের পাতাটা জেমসকে দেখাল। জেমস একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। সেটা লক্ষ্য না করেই রবার্ট বলল “তারপর এই বৃত্তের মাঝে উত্তর পশ্চিম দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলতে হবে ‘হে ভবিষ্যতের আমি, আমাকে দেখা দাও। আমি তোমার দেখা পেতে উৎসুক…..’ তারপর দুবার তালি বাজাতে হবে ঠিক সেইভাবেই দাঁড়িয়ে।” বলে জেমসের জবাবের অপেক্ষা না করেই রবার্ট জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে শুরু করলো। জেমসও অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার পিছন পিছন চলল। “এই জায়গাটা পারফেক্ট হবে। একটু পরিষ্কার করে নিলেই চলবে” বলে সেখানে পড়ে থাকা ডালপালাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করলো রবার্ট। জেমস বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল “রবার্ট, এসব করা কি জরুরি? এই মাঝরাতে, জঙ্গলের মাঝে। কত জংলী জন্তু থাকতে পারে। এসব বোকামি করাটা কি ঠিক হচ্ছে?” রবার্ট ততক্ষণে বিভূতি দিয়ে বৃত্ত আঁকতে শুরু করে দিয়েছে। তারই মাঝে বলল “বিশ্বাস যখন নেই তাহলে এলে কেন তুমি আমার সাথে? প্লিস একটু অপেক্ষা কর।”

“জেমস, এবার যেটা বলতে বলেছিলাম সেটা বলে দুবার তালি বাজাও।” রবার্টের কথায় একটু বিরক্ত হয়েই জেমস কথাটা বলে দুবার তালি বাজালো। বেশ কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। “আমি বলেছিলাম না এসব ফালতু…” জেমসের কথা শেষ হওয়ার আগেই সামনের জঙ্গল থেকে কিছু খসখস আওয়াজ শোনা গেল। “কি হল জেমস?” বৃত্তের এক কোণায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে উঠলো রবার্ট। জেমস তাকিয়ে দেখল একজন খুব বয়স্ক লোক বেরিয়ে আসছে জঙ্গলের মধ্যে থেকে। দেখতে অবিকল জেমসের মত শুধু বয়সটা বেশি। “আই কান্ট বিলিভ দিস!” বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো জেমস। “জেমস, কি হল?” রবার্টের চিৎকারে জেমস বলল “আমার সামনে আরেকটা আমি।” রবার্ট আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল “তুমি দেখতে পাচ্ছ তাকে? মজা করছ না তো?” “না…না…আমার সামনেই আছে, বৃত্তের ওই পাড়ে….” জেমসের কথায় রবার্ট বলে “জিজ্ঞেস করো কিছু ওকে।” জেমস মাথা হেলিয়ে জিজ্ঞেস করলো “আমি কি করি এখন?” বয়স্ক জেমস হেসে বলল “দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি!” জেমস আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে আবার জঙ্গলে মিলিয়ে গেল। “কি বলল সে জেমস?” রবার্টের প্রশ্নে জেমস বলল “কিছুই না।” রবার্ট একটু অবাক হয়ে বলল “ঠিক আছে। এবার আমার পালা।” জেমস বৃত্তের এক কোণায় গিয়ে দাঁড়ালো আর রবার্ট বৃত্তের মাঝে গিয়ে কথাটা বলে দুবার তালি বাজাল। আবারও কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। তারপর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল একজন, সে রবার্ট। কিন্তু একি! তার বয়স এখনকার রবার্টেরই মতোই যে! এমনকি একই জামাও পড়ে আছে যেটা রবার্ট এখন পড়ে আছে! রবার্ট ভয়ে বলল “ এরকম কেন?” সামনের রবার্ট বলল “তোমার আজকেই শেষদিন।” বলে জঙ্গলে মিলিয়ে গেল। হঠাৎ করে কে যেন রবার্টের পিঠে ছুরির কোপ বসিয়ে দিলো। চিৎকার করে কোনরকমে পিছনে ফিরে দেখল সেটা আর কেউ নয় তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু জেমস! আবার একটা কোপ! চোখ শেষবারের মত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে রবার্ট শুনল জেমস বলছে “জুলিয়া শুধু আমার রবার্ট। তোমার এটাই পরিণতি হওয়ার ছিল।” ছুরির কানা বেয়ে তখনও নেমে আসছে লাল রক্ত।

কলমে পৌলমী গঙ্গোপাধ্যায়

5 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here