জাপান পর্ব ১২ : নারা শহর

1
1134
Famous Deer Park of Nara

<<জাপান পর্ব ১১                                                                 ৫ই মে থেকে ৯ই মে ,২০১৮

মেয়ের স্কুলটি যে মজার তা তো আগেই জানিয়েছিলাম। কোনো না কোনো অনুষ্ঠান হতেই থাকে। আর হ্যাঁ , আগে বলা হয়নি , বাবির এপ্রিল থেকে নতুন ক্লাস হয়েছিল , মানে আগে যে ক্লাস এ এরা ভর্তি নিয়েছিল , তার থেকে এক ধাপ উঁচু , আমার অনুমান। তাই ব্যাচ-ডাইরি র সাথে আর একটা জিনিস নতুন দিয়েছিলো। সেটা হচ্ছে নোটিশ খাতা। এটা আমার দেওয়া নাম।এরা প্রথমে, সাদা ফাঁকা কার্ড এর মতো একটা জিনিস বাড়ি তে পাঠায় , মার্চেও দিয়েছিলো। বলা থাকে ওটাতে , কিছু লিখে বা এঁকে রং করে , ফেরত দিতে। দু সাইড এ। নির্দেশ মতো , মা মেয়ে বসে , মেয়ের পছন্দের খাবার , আইসক্রিম আর কাপকেক এঁকে রং করে দিলুম। এখন প্রায় দিন ওটাতে কিছু না কিছু জাপানীস এ লেখা নোটিশ আসে , যা আমাকে নিজে অনুবাদ করে নিতে হয় বা কখনো সখনো দিদিমনি বা আইক (জাপানীস বন্ধু ) বা স্কুল নিজেই সাহায্য করে দেয়। এবারের নোটিশ এ এলো ১০ মে , বোটানিক্যাল গার্ডেন এ কিছু একটা আছে। সেখানে নাকি ২০০ স্কুল যোগদান করবে ,সাথে মা বাবা যেতে পারে। দিনটা এমন যে , বুঝে পারলাম না কি করবো। ১০ই মে , আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। এখনো কটা দিন হাতে আছে , তাই এখনকার মতো আগে শহরের বাইরের ঘুরে আসা টা বেশি মাথাচারা দিয়ে উঠেছে।

জাপানীস এ আসা রোজকার নোটিশ
মেয়ের নোটিশ খাতা
মেয়ের পছন্দের আইসক্রিম

যেহেতু সপ্তাহটি তে অনেক গুলো ছুটি ছিল ,আমরা ভেবেছিলাম , একটু কিয়োটো শহরের বাইরে পা রাখবো , কিন্তু, সোমবার সেই মাউন্ট হিয়েই থেকে ফিরে ,বেশ ক্লান্ত ছিলাম সবাই। তাই প্ল্যান একটু বিলম্বে শুরু হলো। অনেকেই বলেছে , কিয়োটো যেমন সুন্দর শহর , যা জাপানে এসে অত্যাবশক ,ঘুরে দেখার , তেমন আরো কয়েকটা শহর ঘুরে দেখতেই হবে , জাপানে এলে। তার মধ্যে টোকিও , হিরোশিমা ,ওসাকা ছাড়া আরো একটি নাম ছিল নারা। শহর নারা। যার কথা অনেকের কাছ থেকেই শুনেছি। ভাস্করের পরিচিত আসিফ এর মধ্যে ঘুরেও এসেছে। কিন্তু কেন যাবো?আমি প্রথম প্রথম যাবো ভাবলেও , পরে ইচ্ছে হারিয়েছিলাম এই শহর দেখার। তাই দিন কে দিন দেরি করছিলাম আর ভাবছিলাম, যাবো কি যাবো না। শেষমেশ , এই কস্তুরি দি , মানে প্রিয়াঙ্ক দার স্ত্রী , বায়না তে , ভাবলাম দেখা যাক নয় নারা। আসলে কস্তুরী দি র কোনো জাপান ফেরত বান্ধবী নাকি বলেছিলো , জাপানে আসলে নারা ঘুরে যেতে। সেই সূত্রেই এই বায়না।

নারা দুটি জিনিসের জন্য বিখ্যাত , এক হরিনের পার্ক (NARA DEER PARK ) আর হলো Big Budha .যদিও এখানে একটাও বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ) নেই। কিয়োটো যেমন একসময় জাপানের রাজধানী ছিল , নারা নাকি তার ও আগে জাপানের রাজধানী ছিল। তো বোঝায় যাচ্ছে ,জায়গাটা নির্ঘাত সুন্দর হবে।

যাওয়ার আগে অভ্যাসবশত , জায়গার ইতিহাস ভূগোল আমার জেনে নেওয়া এখন অনেকটা নেশা হয়ে গেছে , পাচ্ছে কিছু মূল্যবান জায়গা বা তথ্য মিস হয়ে যায়। তাই আগে থেকে ইন্টারনেট এ দেখে নি , কোথায় কি আছে ?কি ভাবে সেখানে পৌছাবো ?আর কি কি বিখ্যাত সেই জায়গার। নারা যাওয়ার আগে যে সামান্য তথ্য মাথায় নিয়ে গেছিলাম , সেটুকু তথ্য ভাগ না করলেই নয়।

নারা (奈良 市 নারা-শি, জাপানিজ]) জাপানের কানসাই অঞ্চলের রাজধানী, নারা প্রিফেকচার। শহরটি কিয়োটো প্রিফেকচারের সীমানাযুক্ত, নারা প্রিফেকচারের উত্তর অংশে অবস্থিত।জাপানের প্রথম স্থায়ী রাজধানী হেজোর 710 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়, এখন যে শহরটি নারা (奈良) নামে পরিচিত। নগরীর শক্তিশালী বৌদ্ধ মঠের প্রভাব ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সরকারকে একটি গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পর, রাজধানী 784 সালে নাগোয়াতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েক বছর পরে কিয়োটোতে চলে আসে।

নারা কিয়োটো ও ওসাকা থেকে এক ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছানো যায়। পূর্বের স্থায়ী রাজধানী হিসাবে অতীতের কারণে এটি ঐতিহাসিক ধনসম্পদের পরিপূর্ণ ছিল, যার মধ্যে জাপানের বেশ কিছু প্রাচীন ও বৃহত্তম মন্দির রয়েছে।নারাতে আটটি মন্দির, তীর্থস্থান এবং ধ্বংসাবশেষ রয়েছে : সেগুলি তাওদাই-জী, সাঈদাই-জি, কোফুকু-জি, কসুগা শরিন, গঙ্গো-জি, ইয়াকুসি-জি, তোশিদাই-জি এবং হিজো প্যালেস, এবং কাসুগায়াম প্রাইম্মল ফরেস্ট, সব মিলে, সমষ্টিগতভাবে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট “প্রাচীন নারা ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ” গঠন করে।

আমরা ভেবে নিয়েছিলাম , পুরো নারা শহর তো একদিনে দেখা সম্ভব না, তাই যে যে গুলো বেশি বিখ্যাত সেগুলো আমাদের লক্ষ্য ছিল। নারা পার্ক , তোদাইজি মন্দির Todaiji Temple, কাতসুগা তাইশা Kasuga Taisha আর কোফুকুজি Kofukuji Temple . যদিও শেষমেশ আমাদের কাতসুগা তাইশা আর দেখে ওঠা হয়নি। রাস্তা হারিয়েছিলাম।

কিভাবে যেতে হবে ভাস্কর আগের দিন দেখে রেখেছিলো। যাওয়ার জন্য সুগাকুইন স্টেশন বা মাৎসুগাসাকি matsugashaki স্টেশন থেকে ট্রেন নিতে হতো। মাৎসুগাসাকি স্টেশন টা আমাদের ইন্টারন্যাশনাল হাউস থেকে ২.৫ কিলোমিটার হবে। কিন্তু ওখান থেকে ট্রেন ধরলেই , সময় আর পরিশ্রম , দুটোই বাঁচবে । তাই ঠিক হলো মাৎসুগাসাকি স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হবে। সকল ৫ টাই উঠে , মেয়ের সকালের-দুপুরের খাবার বানিয়ে , প্যাক করে নিলাম , আর সাথে নিলাম আরো কিছু খাবার , আমাদের জন্য। এবার আমাদের যাত্রার সাথী ঘোষ পরিবার। সকাল ৮:৪৫ এ বেরিয়ে ,প্রথমে ৮ নম্বর বাস ধরে ২ মিনিটে মাৎসুগাসাকি স্টেশন। সেখান থেকে সারাদিনের রেলওয়ে পাস (নারা র জন্য বিশেষ রেলওয়ে পাস পাওয়া যায় ), মাথাপিছু ১৬৫০ ইয়েন। এখানে টিকিট এর সিস্টেম টা আমাদের কলকাতার মেট্রোর মতো। একদিক থেকে টিকিট ঢুকলে , অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে আসে। আর সেই টিকিট , আবার সংগ্রহ করে পরে ব্যবহার করা যায় , পরবর্তী স্টেশনে , যদি আপনার যাত্রার মাঝে কোনো ব্রেক থাকে তো। এই প্রথম জাপানে এসে এক্সপ্রেস ট্রেন এ ওঠা। হিসেবে মতো ৯:১০ নাগাদ একটা ট্রেন ছিল। ঘড়িতে ৯:০৭ হবে , ওপর থেকে আওয়াজ শুনে বুঝলাম ট্রেন স্টেশন এ এসে গেছে। যতবার ভাস্কর কে বলছি চলো , এই ট্রেন টা পেয়ে যাবো , সে ব্যাটা , বলে থাক, অতো দৌড়ে লাভ নেই , পরবর্তী ট্রেনে যাবো। কি মুশকিল ,এগিয়ে গিয়ে দেখি তখন ট্রেন স্টেশন ছাড়েনি। আমি আর কস্তুরী দি দে ছুট। একদম দৌড়ে ট্রেনের দরজার সামনে। তাতে কি , আমার বর আর মেয়ে সেই ধীমে গতিতে। আমাদের মেট্রো তে যেমন দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায় , শুধু মনে মনে ভয় হচ্ছিলো, এই বুঝি দরজা বন্ধ হলো আর ট্রেন মিস। কিন্তু তা হলো না , দরজা খোলা থাকলো যতক্ষণ না আমরা উঠলাম। রহস্য !!! পরে গবেষণা করে আমি আর কস্তুরী দি দেখলাম , এখানে ট্রেনের চালকের পাশে একজন গার্ড থাকে, যে দেখতে থাকে সবাই উঠেছে নাকি। সবাই উঠলে , দরজা বন্ধ হয় , আর স্টেশন আর প্লাটফর্ম এর মাঝে আপনাআপনি খাড়া হয়ে যাই এক দেওয়াল , যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সত্যি এরকম যদি আমাদের দেশেও হতো , তাহলে রোজ দিন, ট্রেনে কাটা পরে মৃত্যুর খবর বোধহয় পড়তে হতো না। এখানে ট্রেন কখনো লেট হয়না। না তা দেরিতে ছাড়ে। জাপান বিশ্বে এই ব্যাপারে এক নম্বর। সময় জ্ঞান , আনুগত্য, এই দেশ সবাই কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে শিখিয়ে দেয়। আমাদের NDTV খবর চ্যানেল এ সাম্প্রতিক পড়লাম ও , এই নিয়ে মাত্র দুবার , জাপান এর রেল কর্তৃপক্ষ সর্বসমক্ষে মাফ চেয়েছে , কারণ??? কারণ , কোনো বুলেট ট্রেন সময় থেকে ১১ সেকেন্ড , সেকেন্ড মশাই সেকেন্ড , আগে ছেড়েছে। এ দেশ এগোবে না কি আমরা এগোবো ?

ট্রেন ছেড়ে চললো স্টেশনের পর স্টেশন , মাঝে কয়েকটা স্টেশন এ থেমেছিল কিনা মনে নেই , হয়তো থামেনি। বড় বড় কাছের জানলা দিয়ে কিয়োটো শহর বেশ দেখা যাচ্ছিলো ,দেখা যাচ্ছিলো এদের জীবন জাপান , ঘরবাড়ি। আমাদের স্টেশন তাকেদা takeda , দেখা থেকে আবার ট্রেন ধরে Kintetsu-Nara স্টেশন , আমাদের গন্তব্য। সময় লাগলো। নারা স্টেশনের বাইরে আসতেই দেখলাম পাশ দিয়ে চলে গেছে একটা ছোট মার্কেট , সামনে ফোয়ারা। স্টেশনের বাইরে কিছু কিছু event ও হচ্ছিলো। মানে বুঝিনি যদিও। ভাস্কর আর প্রিয়াঙ্ক দা , enquiry /অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে জেনে এলো কোথায় কি আছে , আর কি করে যেতে হবে। সাথে হাতে করে নিয়ে এলো একটা ম্যাপ। নারা র ম্যাপ।

Nara Station
জায়গাটা অনেক কষ্টেও ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছিলো না , কেউ না কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত। শেষমেশ এই বিদেশিনী কে নিয়েই তাই এই ছবি।

নারা পার্ক (奈良 公園, নারা কোয়েন) একটি কেন্দ্রীয়, বড় পার্ক। 1880 সালে প্রতিষ্ঠিত, এটি নারার এর প্রধান আকর্ষণগুলির একটি ।স্টেশন থেকে হাঁটা পথে , ডানদিকে শুরু হলো নারা deer Park .রাস্তাতে স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে , বিভিন্ন আকারের হরিণ। মাঝে মাঝে রাস্তায় ষ্টল বসেছে, ছোট গোল বিস্কুট এর ন্যায় কিছু। ১০০ ইয়েন এ এটা কিনে , সবাই হরিণ কে খাওয়াই। ছোট ছোট বাচ্চা থেকে বড় , সবাই মেতেছে , হরিনের সাথে ,কেউ ফটো তুলছে,কেউ খাওয়াতে ব্যাস্ত। পার্ক ছোট দেওয়ালে ঘেরা , তাই বেশ দেখা যাচ্ছে হরিণ ছানাদের। আসল পার্ক অনেক টা বড়। এই পার্কে নাকি শত শত রোমান হরিণ রয়েছে। শিনটোর ধার্মিক মত অনুযায়ী হরিণ নাকি দেবদেবীর বার্তাবাহক , আর সেই কারণেই ,Nara এই , প্রায় 1200 হরিণ এর পার্ক , এই শহরের একটি জনপ্রিয়
স্থান হয়ে ওঠেছে এবং এমনকি একটি প্রাকৃতিক ধন হিসাবে মনোনীত করা হয় । এছাড়া ,হরিণ কে কোনো ভাবে আঘাত, এখানে আইনত দণ্ডনীয় (National Crime ) .
আমার মেয়ের তো বেশ লাগছিলো , হরিণ দেখতে। চিড়িয়াখানার বাইরে এভাবে খোলা মেলা ভাবে ঘুরতে দেখা হরিণ ওর কাছেও প্রথম ই । আমি অবশ্য চেইন্নাই আই আই টি র ক্যাম্পাসে এরকম খোলা জায়গায় ঘোরা ফেরা করা হরিণ আগেও দেখেছি। মেয়ে চাইছিলো , ওদের খাওয়াতে , এদিকে ভয় ও পাচ্ছিলো। অনেক কষ্টে এক দুবার খাওয়াতে পেরেছিলো বোধহয়।

Nara Deer Park

ফুটপাথ রাস্তা জুড়ে , আমাদের দেশের দর্শনীয় স্থানের মতো বিভিন্ন খাবার দোকান , তার মধ্যে , অন্যরকম দোকান এর মধ্যে ছিল গ্রিল শপ , যেখানে অক্টোপাস থেকে শুরু করে আর কি যে নয় গ্রিল হচ্ছিলো জানা নেই , ছিল ফ্রোজেন ফ্রুট ষ্টল (ফেলল গুলো কে বরফ করে তার মাঝ খান দিয়ে একটা কাঠি ঢোকানো ), এছাড়া জেলি শপ , ক্যান্ডি শপ, আইসক্রিম, চাওমিন , পোচ করা ডিম, বিভিন্ন আকারের ডিম সেদ্ধ। একদম মেলা মেলা ভাব। দারুন লাগছিলো। যদিও এতো খাবার দেখেও একটি বারের জন্যও আমার কিছু খেতে ইচ্ছে হয়নি , কারণ টা খুব স্বাভাবিক। আমি জাপানীস খাবার কে ভয় পাই রীতিমতো। হিহি।ঠান্ডা ছিল, তাই আইস ক্রিম ও খাওয়া হয়নি , মেয়ের ভয় এ। প্রিয়াঙ্ক দা মিষ্টি আলু গ্রিল এর মতো কিছু কিনেছিলো। স্বাদ নিয়েছিলাম একটিবার।

Street Food Stall near Nara Deer Park
Grilled Octopus

আমাদের পরবর্তী দেখার জায়গা ছিল তোদাইজি মন্দির , যেটি বিশালাকার বুদ্ধের জন্য বিখ্যাত। সেই পথেই হাঁটছিলাম। মিনিট ১৫ পরে রাস্তা পেরিয়ে ,বাঁ দিকের প্রশস্থ রাস্তা। একেই গোল্ডেন উইক , ভিড় কাকে বলে। রাস্তা শুরু হবার মুখে ওপর থেকে দেখলে মনে হবে জন সমুদ্র। এখানেও রাস্তার দু ধার দিয়ে নানা খাবাবের দোকান। মিষ্টির দোকান ও ছিল , যাকে বলে রাইস কেক। এখানেও চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণ।

Crowd -way to Todaji Temple

পৌঁছে গেলাম তোদাইজি মন্দিরের গেটের সামনে , বিশালাকার গেট, যার নাম নন্দাইমোনের গেট Nandaimon Gate। বাঁ পাশ দিয়ে গিয়ে ভেতরে ঢুকলে টিকিট কাউন্টার।প্রবেশ মূল্য ৬০০ ইয়েন ,মাথা পিছু। ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম বিশালাকার মন্দির দূর থেকে দেখা যাচ্ছে , সামনে অনেকটা প্রশস্থ জায়গা। খুব বেশি ভিড়। লোক গিচগিছ। সবাই ব্যস্ত ছবি তুলতে। এই মন্দির সম্পূর্ণ কাঠের তৈরী। এখানকার সব মন্দির ই কাঠের তৈরী বেশিরভাগ। এটি বিশ্বের বৃহত্তম কাঠের বিল্ডিং

Nandaimon Gate
Deer near Todaiji Temple

টোডাইজি /তোদাইজি (東大寺, তোওদাইজি, “গ্রেট ইস্টার্ন টেম্পল”) জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলির মধ্যে একটি এবং নারার একটি ল্যান্ডমার্ক। মন্দিরটি 75২ খ্রিষ্টাব্দে জাপানের সমস্ত প্রাদেশিক বৌদ্ধ মন্দিরের প্রধান মন্দির হিসেবে নির্মিত হয়েছিল এবং 784 খ্রিস্টাব্দে রাজধানী নারা থেকে নাগোয়াতে সরানো হয়েছিল যাতে মন্দিরের সরকারি কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

Todaiji Temple

Todaiji এর প্রধান হল, Daibutsuden (বিগ বুদ্ধ হল) বিশ্বের বৃহত্তম কাঠের বিল্ডিং, 1698 এর বর্তমান পুনর্গঠন হয়। মূল মন্দির হলের আকার মাত্র দুই তৃতীয়াংশ হয় সত্ত্বেও। বিশাল ভবনটি বুদ্ধের (দিবশুসু) জাপানের বৃহত্তম ব্রোঞ্জ মূর্তিগুলির একটি। 15 মিটার উঁচু, বেষ্টিত বুদ্ধ ভেরাকানা Vairocana কে প্রতিনিধিত্ব করে এবং দুটি বোধিসত্ব দ্বারা প্রবাহিত হয়।

Daibutsuden Hall

কয়েকটি ছোট বৌদ্ধ মূর্তি ও বর্তমান ভবনগুলির মডেলগুলিও Daibutsuden হল এ প্রদর্শন করা হয়। আরেকটি জনপ্রিয় আকর্ষণটি তার ভিতরের একটি স্তম্ভ যার মধ্যে একটি গর্তের ন্যায় জায়গা ,যা ডাইমাংশু এর নাসিকা আকারের। বলা হয় যে যারা এই গর্তের মধ্যে প্রবেশ করে বেরোতে পারবে তাদের পরবর্তী জীবনে জ্ঞানদান করা হবে।আমি আর পরবর্তী জীবন চাইনা , আর না চাই আমার পরিবারের কেউ আবার জন্ম গ্রহণ করুক। তাই এই প্রচেষ্টা তে অংশগ্রহণ করার কোনো ইচ্ছেই আমার ছিল না।

Big Buddha

টোডাইজি অভিমুখের পাশাপাশি নন্দাইমোনের গেটটি দাঁড়িয়ে আছে, দুটি বড় ভাস্কর্যের মূলে রয়েছে এই একটি বড় কাঠের দরজা। এটি নিও গার্ডিয়ান কিং মূর্তি কে যেমন প্রতিনিধিত্ব করে তেমন ই নিজেই একটি জাতীয় কোষাগার মনোনীত হয়েছে।

প্রবেশ সময় :
সব দিন খোলা
7:30 থেকে 17:30 (এপ্রিল থেকে অক্টোবর)
8:00 থেকে 17:00 (নভেম্বর থেকে মার্চ)

প্রবেশ মূল্য -৬০০ ইয়েন

মন্দির দেখে বেরোনের পথে ছিল কিছু দোকান,যেখানে শো পিস , নারার কি চেন , পুতুল , ঘর সাজানোর চুম্বক ছিল। আমিও কিছু কিনলাম। নারাকে মনে রাখার জন্য , সঙ্গে করে ভারত নিয়ে যাওয়ার জন্য। সময় ১ টার কাছাকাছি। দুপুরের খাবার সারলাম এখানেই , পাশে একটা ঝিলের ধারে , মনোরম পরিবেশ। সঙ্গে আনা ভাত,রুটি, ডিমের কারি আর গ্রীলড চিকেন। এর থেকে বেশি কিছু জিনিস এখানে সহজলভ্য নয় , ডিম আর চিকেন খেয়েই দিন কাটছে এখানে।

ধীরে সুস্থে বেরিয়ে পড়লাম আরো দুটো গন্তব্যের উদেশ্যে। মাঝে অলস সময় এ তুলে নিলাম হরিনের সাথে স্ব চিত্র। কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে একটু বেশি আগেই চলে এলাম Kasuga Taisha শ্রাইন থেকে। প্রিয়াঙ্ক দা বেঁকে বসলেন। আর যেতে চাই না উল্টো রাস্তায়। তাই অগত্যা , কফুকুজি র উদ্যেশে। এর রাস্তা নারা পার্কের ওপর দিয়েই। রাস্তার মাঝে মাঝে দিক নির্দেশ করা ছিল।সেই দেখে পৌছালাম কোফুকুজি টেম্পলে। এতো তজি টেম্পলের বোন। মানে একই রকম , একটা প্যাগোডা , নারাতেও। বোন বলবো না কেন বলুন !!!এটা জাপানের দ্বিতীয় লম্বা প্যাগোডা,যার দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার , যা মাত্র তজি প্যাগোডা থেকে ৭ মিটার ছোট। আমার কি আর সেই চোখ আছে যে ৭ মিটার ছোট বড় মাপবো 🙂 .আমার অবুঝ চোখ কি বোঝে ইতিহাসের মূল্য ?তাই আমার কাছে তজি আর কোফুকুজির পাঁচতলার প্যাগোডা একই লাগলো। প্যাগোডা যথারীতি বন্ধ।কোফুকুজি এর প্যাগোডা নারার একটি ল্যান্ডমার্ক এবং প্রতীক। এটি প্রথম 730 সালে নির্মিত হয়েছিল, এবং সম্প্রতি 14২6 সালে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

পাশে ছিল মূল মন্দির আর তার পাশ দিয়ে Treasure House .Treasure House এই জন্যই যায়নি , কারণ যা যা মূল্যবান জিনিস থাকবে , তার মাথা মুন্ডু কিছু বুঝবোনা ,কারণ কেউ আমাদের জাপানীস থেকে ইংলিশ এ অনুবাদ করে দেবে না , সব লেখা জাপানীস এই।
কোফুকুজি মন্দিরে প্রবেশের সময় সামনের মাঠ ও প্যাগোডা চারপাশে বিনামূল্যে দেখা সম্ভব হয়, এখানে প্রবেশের জন্য ভাতা দেওয়ার জন্য দুইটি এলাকা আছে: কোফুকুজি এর জাতীয় ট্রেজার যাদুঘর এবং পূর্ব গোল্ডেন হল। সম্প্রতি সংস্কারকৃত ন্যাশনাল ট্রেজার যাদুঘরটি মন্দিরের মহান শিল্প সংগ্রহের অংশ প্রদর্শন করে এবং বৌদ্ধ শিল্পের প্রেমীদের জন্য একটি নিখুঁত জায়গা হিসাবে মনোনীত হয়। অনেক অসাধারণ প্রদর্শনীর মধ্যে তিনটি মুখোমুখি, ছয়টি সশস্ত্র আশুরার মূর্তি, যা জাপানের সমস্ত বৌদ্ধ মূর্তিগুলির অন্যতম।

Kofukoji -সেন্ট্রাল গোল্ডেন হল

কফুকুজি এর প্রধান ভবন, সেন্ট্রাল গোল্ডেন হল, 1717 সালে একটি আগুনে ধ্বংস হয়ে যায় এবং 1800-এর দশকে একটি ছোট আকারে একটি প্রতিস্থাপন হল নির্মিত হয়েছিল – মূল কেন্দ্রীয় গোল্ডেন হলের পুনর্গঠন করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, এটি ছিল পুরোপুরি পুরানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত। পুনর্নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান, এবং হল অক্টোবর 2018 খোলা হবে নির্ধারণ করা হয়।

প্রবেশ সময় :
9:00 থেকে 17:00 (জাতীয় ট্রেজার মিউজিয়াম এবং ইস্টার্ন গোল্ডেন হল)
মন্দিরের মাঠ ২4 ঘন্টার খোলা থাকে।

প্রবেশ মূল্য :
700 ইয়েন (ন্যাশনাল ট্রেজার মিউজিয়াম)
300 ইয়েন (পূর্ব গোল্ডেন হল)
900 ইয়েন (উভয়)

Main Hall-Pagoda

বেরিয়ে পড়লাম ফেরার পথে। হেঁটে পৌঁছালাম স্টেশন এ। ট্রেন ছিল ৫ টার দিকে,তাও ৩০ মিনিট আগেই চলে এসেছি। তাই ঘুরতে গেলাম পাশের ছোট মার্কেট টা তে। DAISO বলে একটা দোকানে ঢুকলাম , কোথাও পড়েছিলাম , এটা একটু সস্তা দোকান। বুঝতেই তো পারেন , জাপানে বিলাসিতা করার টাকা যেমন নেই , আবার মন ও মানে না , কিছু না কিনেও থাকা যায় না। কিনলাম জাপানীস পুতুল এর একটা কি চেন আর একটা এক আঙুলের কাঠের জাপানীস পুতুল। ভাস্করের মতে কি হবে এসব কিনে , তবে আমি কিনি একান্ত শখে। জিনিস জমানোর নেশা আমার। আমার সেই ছোটবেলার কত জিনিস আজ আছে , আজ আমার মেয়ে আমার স্কুল জীবনে পরা হেয়ার ব্যান্ড টা পরে। তাহলেই বুঝুন। কি পাগল আমি।

Some Gifts from Nara

ট্রেনে উঠে পড়লাম সময় মতো। কথা ছিল কিয়োটো স্টেশনে যাবো সেখান থেকে বাস ধরে খাওয়া দাওয়া করে বাড়ি , মানে গেস্ট হাউস। সবাই ক্লান্ত , উঠেই সবাই ঘুমিয়ে পড়লো , আমি ছাড়া। আমি এটি ক্লান্ত হলেও খুব কম সময়ই ট্রেনে বাসে ঘুমিয়েছি বলে মনে পরে। যাক সে কথা। ঘড়ির কাঁটা দেখে হিসাব করলাম , আমরা খুব সহজে ৬:৩০ এর মধ্যে সুগাকুইন ফিরতে পারি ,যে ভাবে আমরা এসেছিলাম ঠিক সেভাবে ফিরে গেলে। তাই তাকেদা স্টেশন ঢোকার আগের মুহূর্তে ভাস্করকে সে কথা বললাম। প্রিয়াঙ্ক দা রা বসেছিল আমাদের ঠিক উল্টো প্রান্তে মুখোমুখি। দাদা দিদি ঘুমে অস্থির। অনেক বার ডাকতে না উঠলে , বর্ণ কে বলি মা বাবা কে ডাকতে , আমরা Takeda তে নেমে যাবো। স্টেশন প্রায় ঢুকছে ,ওদের ঘুম ভাঙলো। তাড়াহুড়ো করে নেমে পড়লাম সবাই। মনে মনে ভাবছি পরবর্তী ট্রেনের কথা অমনি পাশ থেকে কানে এলো আমাদের কিয়োটো স্টেশন যেতে হবে। কেন?আমরা কি ভুল জায়গায় নেমে পড়েছি?না!!!কস্তুরী দি , ব্যাগ ট্রেন এ ফেলে এসেছে। কি কান্ড। ঘুমচোখে প্রিয়াঙ্ক দা নিজের ব্যাগ নামলেও দিদির ব্যাগ নামাননি। বোঝো ঠেলা। ব্যাগ এ খোঁজ নিয়ে জানা গেলো বর্ণ র সোয়েটার আর সকাল এ কেনা গিফট এর জিনিস ছাড়া তেমন কিছু নেই। কিন্তু এভাবে ছেড়ে তো দেওয়া যায়না।

কি করা যায় , কি করা যায়। আমি সান্ত্বনা দিতে থাকলাম দিদি কে। যদিও দিদি আমার থেকে অনেক বেশি মনোবল (strong ), আমার সান্ত্বনা বাক্যের খুব একটা প্রয়োজন তার ছিল না। হিহি। সিদ্ধান্ত হলো আমরা কিয়োটো স্টেশন যাচ্ছি। এসে মনে হচ্ছিলো , কেন যে ট্রেন থেকে নামলাম , একটু সময় বাঁচাতে গিয়ে এখন সব গোলমাল হয়ে গেলো। ট্রেনে এ উঠে অনেক বার অনেক ভাবে ট্রেন ড্রাইভার কে বোঝানো চলতে থাকলো , যে আমরা আমাদের ব্যাগ হারিয়েছি, লাস্ট ট্রেন এ। কি বুঝেছিলো জানিনা , তবে আন্দাজ করতে পেরেছিলো মনে হয়। তাই কিয়োটো স্টেশন এ নেমেই আমাদের নিয়ে গেলো কন্ট্রোল রুমে। সেখানে আবার জাপানীস কে ইংলিশ বোঝানোর পালা। কিন্তু ইতিমধ্যে একজন জাপানীস মহিলা এলেন , মানে এরাই ওনাকে তলব করে এনেছেন আর কি। ভদ্রমহিলা খুব স্পষ্ট ও সুন্দর ইংলিশ বলতে পারেন। উনি আমাদের কথা স্টেশন মাস্টারকে আর স্টেশন মাস্টারের কথা আমাদের ক্রমাগত অনুবাদ করে দিলেন। শেষমেশ জানা গেলো ওরা শুরু করেছে খোঁজা , কিন্তু সময় লাগবে। ৭ তার পর খবর নিতে। আগের দিন মাউন্ট হিয়েই তে আমাদের ব্যাগ , আজ এদের। বসে থাকলাম ১ ঘন্টা , স্টেশনের বাইরে , কিয়োটো টাওয়ার এর সৌন্দর্য্য , কিছু হাসি ঠাট্টা করে সময় কেটে গেলো। ৭ টার সময় খবর নিতে গিয়ে জানা গেলো , ব্যাগ পাওয়া গেছে , কিন্তু আস্তে আরো ১ ঘন্টা লাগবে। কি করা যায়। সবাই বললো আগে রেস্টুরেন্ট এ চলে যায়। খাওয়া অর্ডার দি। তারপর নয় ব্যাগ নিয়ে যাওয়া হবে। কথা মতো চেপে বসলাম ২০৬ বাস এ। বাস এ উঠতেই কেমন যেন করে উঠলো শরীর , গা বমি দিছিলো মসাথে পেট টাও কেমন হলো। পাত্তা দিলাম না।কিন্তু তখন কে জানতো , সে রাতের খেলা তখন শেষ হয়নি , আরো এক পর্ব বাকি , অন্তত আমার জন্য।

কথা হলো Gion এর কাছে মহারাজা বলে একটা রেস্টুরেন্ট ভাস্কর দেখেছে সেখানে নেমে যাবো , আজ আর ইউনিভার্সিটি পাড়া গিয়ে কাজ নেই। আসলে ভোগান্তি সবে শুরু হয়েছিল। নেমে পড়লাম কথা মতো। কিন্তু , যতবার এ আমরা মহারাজা তে ঢুকতে যায় , বাইরে দাঁড়ানো এক লোক আমাদের ওপরের পথ দেখায় , মানে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যেতে বলে , যদিও আমাদের চোখের সামনে মহারাজা জ্বলজ্বল করছিলো নিচের তলাতেই। দশবার ওপর নিচ করে , লোকটাকে গালি দিয়ে , শেষমেশ বুঝলাম,আমাদের ভুল। মহারাজা কোনো রেস্টুরেন্ট নয় , সেটা একটা night ক্লাব। এদিকে পেটে ব্যাথা ,ক্রমাগত , বাড়তে শুরু করেছে। কি করবো বুঝে পাচ্ছিনা। বিকেলে খাওয়া পাউরুটি যে এভাবে ধোঁকা দেবে কে জানতো। আবার সেখান থেকে ২০৬ বাস ধরে হ্যকুমানবেন , মানে চেনা পাড়াতে , সলমন রেস্টুরেন্ট এ আমরা। প্রিয়াঙ্ক দা এদিকে গেছে , ব্যাগ আনতে। খাওয়া দাওয়া কোনো ক্রমে শেষ করে ফেরার পথে বেশ বুঝলাম , আমার অবস্থা খারাপ থেকে খারাপ তর , বাড়ি ফেরা মুশকিল। ভাস্কর বললো “আরে আগে তো বলবে , আমার চেনা জায়গা , আগে বললে , কখন ভেতরে নিয়ে গিয়ে সব হয়ে যেত “, বুঝতেই পারছেন , কি লজ্জা। যাক শেষে এই ছিল কপালে , কিয়োটো বিশ্বাবিদ্যালয় এ পড়ার সৌভাগ্য হয়নি ঠিক এ , কিন্তু টয়লেট ব্যবহার করার সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য , কি যে বলবো , জুটলো। নারা যাত্রা চিরদিন হয়তো একারণে মনে রাখবো।

এসপ্তাহে ছিল বিবাহবার্ষিকীর ৯ বছর পূর্ণতা। আগের বছর ও এ সময় জানতাম না , যে এবছর আমরা জাপান এ থাকবো। এদিকে ওই ১০ এই মে তে আবার মেয়ের স্কুল থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেন এ যাওয়ার জন্য আমরা হ্যাঁ করে দিয়েছি। ভাবলাম এবার নয় হোক একটু অন্যরকম সেলিব্রেশন , ক্ষতি কি। অপেক্ষায় ১০ ই মে ,আর আগামী সপ্তাহে আরো এক নতুন শহর কে চিনে নেওয়ার।

 

<<জাপান পর্ব ১১                                                                          জাপান পর্ব ১৩ >>

পর্ব ১২ :CopyRight @ M K Paul, May,2018

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here