সত্যি

0
277
Photo :wall.alphacoders.com

নিভু নিভু নেমেসিসের নিয়মিত নিউজে,নিজেকে নিম্নমুখে নিমজ্জিত হওয়ার হাত থেকে নিরাপদ রাখতে নতুন নিয়মে, বহিঃপ্রকৃতি’র ব্যালকনিতে ব্যোমকেশ’র ন্যায় বিবেকের বিচার’এ দাড়িয়ে যখন আপন সত্য উদ্ঘাটনের উদ্দেশে যথা যোগ ইষ্ট- যথেষ্ট সতর্কতার সাথে সন্দিহান হয়ে সচেষ্ট ভাবে ভাবতে বসি… কখনো কখনো , কফিহাউসের কোণার টেবিলে টোস্টে’র টুকরো মুখে করে কিংবা কবিগুরুর কোনো অপরিচিত কবিতার কালজয়ী লাইনের মাঝে , যেটা হয়তো আমার মতোই চোখের আড়াল হতে হতে অবলুপ্তির হাতছানি’র হেফাজতে হাঁপিয়ে উঠেছে, আর, আর সেই হাঁসফাসানির চোটেই নিজেকে বাঁচাতে শেষ মরণ কামড় বসিয়েছে আমার অস্তিত্বসংকটের লড়াইয়ের কমরেড হবে বলে। বা কোনো গভীর রাতে স্বপ্নপরীর সাথে অবাধ মেলামেশায় স্বপ্নদোষে ঘটে যাওয়া কিছু স্বপ্নালু মুহূর্তের তরলায়িত অধঃক্ষেপ যেটা এই সভ্য সমাজ পরদিন আমার অধঃপতনের মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করে, হয়তো এমনই কোনো এক সকালে অন্নদাতার মুখে ‘বরাহনন্দন’ শুনে বিষণ্ণ বদনে বাসি বিছানা ছেড়ে বাইরে আসা মাত্রই আসামী কে জেরার মতো ছুটে আসা সহস্র সওয়ালের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের পুঞ্জিভূত মেঘের পরস্পর প্রচন্ড সংঘাতে এক পসলা লাইসোজোমে’র অনিবার্য আগমন আকটাতে যখন ছুটে পালাতে চেষ্টা করি, অথবা পিকনিকে দেখা সেই পেখম্ মেলা মেয়েটাকে দেখে আমার মনে পড়ে যাওয়া ব্যর্থ প্রেম, পাঁজরে পাঁজরে যেন ভেনম্ ছড়িয়ে দেয় । আবার হয়তো বা স্মৃতি’র recycle bin’ এ পড়ে থাকা কোনো অচেনা প্রেমিকার প্রেম নিবেদনের নিমিত্তে লেখা একটা ছোট্ট চিরকুট এই চির খাওয়া বুকে স্বান্তনার চুমু দিয়ে যায়। তাই, মাঝেমধ্যে জ্বলন্ত navy cut স্কোয়ামাস ছুঁয়ে আষাঢ়ের আকাশের মতো কালো করে দিয়ে যায় ঠোঁটটা, হয়তো জটিলতার জোয়ার টেনে নিয়ে যেতে চায় শিকড় ছিড়ে আমায় অনেক দুরে, যেখানে হয়তো নোঙড় করার মতো কোনো বন্দর নেই, চারিদিকে কেবল অন্তত বিস্তৃত জলরাশি যা আমাকে টেনে এনেছে আমার নিয়তির চৌকাঠে, আমাকে ডোবাতে চাইছে জলরাশি ভেদ করে ঐ নোংরা পাঁকে– সমাজে’র গভীর অন্ধকারে। কিংবা, লালসার লালায় পা পিছলে ভাগ্যযোনির মুখে আমার প্রতিজ্ঞার বীর্যস্খলনের বিপর্যস্ত রুপ দেখে নিজ কঙ্কালটাও কলঙ্কের কালো তেই নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে প্রতিবার। সেই স্বত্যানেষী সেজে সত্যের সন্ধানে , সত্তর সে সূত্রের সমাধান সহজে সাধ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ করাটা যে অলীক কল্পনা করা ছাড়া আর কিছুই নয় এই সত্য টুকু উপলব্ধি করতেই সহস্র মিথ্যের সাথে সহবাস করতে হয়েছে বহুবার। কত মিথ্যে কে চিনতে না পেরে আপন ভেবে আবেগের আবডালে আসন্ন বিপদকে আহ্বান জানিয়ে চরম নির্বুদ্ধিতায়, নীরবে নিভৃতে লুকিয়ে কেঁদেছে আমার রাত বালিশ। কুমার বিস্ওয়াস এর শায়েরি শুনে কিংবা কিংবদন্তি কুমারের -জিন্দেগি কি তালাশ মে হাম, মউত কে কিতনে পাস আ গ্যায়ে- সুর মূর্ছনায় মিলিয়ে মাতাল করতে চেয়েছি প্রতি মিলিলিটারে প্রতিটি রক্তের বিন্দুকে। বা কোনো বর্ষপূর্তির রাতে নবাগত আনন্দের হালখাতার শুভোদ্বোধনের শুভেচ্ছার পরিবর্তে আমার সারাবছরের সফলতা-অসফলতা যখন সমাজের কাছে সাট্যায়ারের সফটওয়্যার হয়ে ওঠে তখন নিজেকে কিরকম বাণিজ্যিক পণ্যের মতো মনে হয়, মনে হয় আমি সেই বেশ্যা যে কিনা সফলতা নামক বাবুর সাথে সহবাসে অক্ষম হয়েছে বলে তাকে অসফলতার দলে পড়ে আজ রাতে গণধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। অথবা আমার বুদ্ধাঙ্কের ফ্যালোপিয়ান টিউবে এক এক বার উঁকি মেরে দেখি, যে দুঃশ্চিন্তার শুক্রাণুগুলো কি শেষমেষ সুবুদ্ধিসম্পন্ন ডিম্বাশয়গুলোকে নিষিক্ত করবে, নাকি ওরা পারবে নিজেদের নিষেক পর্দার অন্তরালে আড়াল করতে ,একবার নিষিক্ত করতে পারলে সমাজ কালি ছেটায় আমার বুদ্ধি’র দিকে আঙুল তুলে, প্রশ্ন করে কোথা থেকে আসে এসব অবৈধ ভাবনা…

এসব ভাবতে ভাবতে যখন মাথাটা বুঁদ হয়ে এল তখন বুঝলাম ,আমার ভাবনারা বোধদয় তাদের, ইন্টারফেজ’এ plectonemic coil প্রস্তুতে পরস্পর পাগলামি শুরু করেছে আর নবাগত অপত্য চিন্তাগুলো নিলয়ের কপাটিকা কাঁপিয়ে একটা হিমেল স্রোতের মতো তাদের পিতৃপুরুষের বৈশিষ্ট্য বয়ে বেড়াচ্ছে গোটা খাঁচার ভেতর বুক ফুলিয়ে। প্রতিটি পদক্ষেপে perfection এর আশায় একটা নতুন fumble! আর জিভটা আটকা পড়ে Incisor 2/2 এর মাঝে। আমার সাফল্যের সূর্য যখন হতাশার আড়ালে মেঘ-রোদ্দুর খেলছে তখন বারবার একটা হিমেল হাওয়া হাড় হিম করা ব্যাধিতে আমায় আন্তরিক আলিঙ্গনে আক্রান্ত করতে এগিয়ে আসছে জীবনের প্রতিটি চরণে আর অসহ্য অসহায়তায় অলিন্দের অন্তর থেকে অচিন পাখি চিৎকার করে পাঁজরের গায়ে সজোরে পা ছুড়ে পড়শির প্রাণ প্রার্থনা করছে অকালমৃত্যুর ফাঁদ থেকে মুক্ত করতে। আপন সত্য উদ্ঘাটনের উদ্দেশে নিজেকে বারবার এভাবে প্রতিবিম্বিত হতে হয়ে পেরিডেন্টাল লিগামেন্ট পর্যন্ত শিউরে তোলে অনুভূতিগুলো ।মনে হয় যেন মুহূর্তে সব লোহিত কণিকা গুলো থিতিয়ে পড়বে আবার, হিমোগ্লোবিনও হার মানবে সেই হতাশার হিমেল হাতের ফাঁসে। আচ্ছন্নতার অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে মনে হয় তবে এ-ভাবেই কী আমার সত্যের সন্ধানের সমাধি দিতে হবে! মুহূর্তে মনে পড়া মধ্যবিত্ত মেধার , মাঝারিমানের হওয়ার গঞ্জনার প্রতিদিনের জমতে থাকা মৃদুআঁচ যখন একদিন আমার সহ্যের সীমান্তে গনগনে আগুন ছোটায়, হঠাত্ই যেন এক প্রচন্ড উষ্ণতার বিকিরণে সেই বরফ শীতল চিন্তার স্রোত পিছুহটতে বাধ্য হয়। সেই প্রচন্ডোষ্ঞ রক্ত-দুঃশ্চিন্তা দগ্ধ তরল মিশ্রণ যেন সর্বোচ্চ স্ফুটনাঙ্কে নির্দিষ্ট সংযুতিতে আবেগী আচরণ থেকে যথেষ্ট মাত্রায় ধনাত্মক বিচ্যুতি প্রদর্শন করে সমস্ত শারীরিক সমীকরণকে মিথ্যা প্রমাণিত করে , উৎপন্ন মৃদু উষ্ণ এক লীনতাপ ইরা – পিঙ্গলাতে ওদের বিজয় মিছিল তোলে, আর সুষুম্নার শীর্ষে দাঁড়িয়ে শ্লোগান দেয় Truth is nothing but a stubborn illusion…

আমার কানে অদূরেই ভেসে আসতে লাগল “আসলে সত্যি বলে সত্যিই কিছু নেই”।

শান্তনু চ্যাট্টার্জ্জী,

লেখক : শান্তনু চ্যাট্টার্জ্জী, 21 বছর, দমদম মতিঝিল কলেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here