প্রজাতন্ত্র

0
142
Photo : Kolkata24x7

৷     ১    ।

১৩ বছরের বিনুর আজ খুব আনন্দ।
ইস্কুল আজ ছুটি,
২৬ শে জানুয়ারি –
আনন্দের হাট,চড়ুইভাতির হুড়োহুড়ি;
ঘরে চড়বেনা আজ হাড়ি।
মাস্টারমশাইয়ের কাছে বিনু শুনেছে
২৬ শে জানুয়ারি দেশের মানুষ,
সত্যিকারের স্বাধীনতা  পেয়েছে-
পেয়েছে  মান আর হুশ-
ইচ্ছেমতো  কথা বলবার স্বাধীনতা, অধিকার –
পেটভরে খাওয়ার অধিকার ,
অসুখের সাথে,
কোমর কষে পাঞ্জা  লড়বার  অধিকার –
রোদ্দুর, বৃষ্টি,  বন্যার লালচোখ
বাঁচিয়ে চলবার  অধিকার –
শালীনতা, সম্ভ্রম রক্ষা করে,
সমস্ত অন্যায়কে টুটি চেপে
মারবার অধিকার-
বিচার চেয়ে, ন্যায়বিচারের অধিকার;
অন্যায়ের প্রতিবাদে মুখর হওয়ার অধিকার।
বিনু জানেনা এসবের  মানে-

৷   ২   ।

এতকিছুর অধিকার, কোথায় পাওয়া যায়!
কোথায় এসব কথা লেখা আছে-
সব অজানা!বিনুর কাছে,  অজানা
তাদের পাড়ার সবার কাছে –
বিনুর, এসব কথা শুনলে –
কেমন নতুন নতুন লাগে।
অতকিছুর  প্রয়োজন বিনুদের নেই,
একটু খাওয়া পেটভরে, মাথায় একটা,
ছোট টিনের ছাউনি দেওয়া ছাদ-
আর একটু ওষুধ,  রোগ, বালাইয়ে।
এটুকুই বিনুদের চাওয়া-।
তাদের গ্রামের সবার,
এইটুকুই চাওয়া৷
বিনু জানেনা তার অসুস্থ  মায়ের,
ওষুধ  কাল কে দিয়ে যাবে!
এবেলা ভাত জুটলেও রাতের বেলায়,
শুধুই জল তার ক্ষুন্নিবৃত্তি,  হয়তো করে দেবে!
বিনুরা দুবেলা  ভাতের স্বপ্ন দেখেনা
দেখতে জানেনা৷

৷ ৷  ৩  ।।

বিনু জানেনা আষাঢ়ের প্রথম ধারা,
তাদের ঘর কে নতুন করে,
স্নান করাবে কিনা!
আজ সে কিছুই জানতে চায়না মায়ের কাছে-
কাগজের কয়েকটি  তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে,
তাদের বাড়ী থেকে,
নাম না জানা এক জনপদ থেকে
কত মানুষকে সেই কাগজের পতাকা,
বিলি করে যায় বিনু
কোথাও আজ বনভোজন হচ্ছে,কোথাও-
ফুটবল খেলা হবে, দিন – রাতের ;
বিনুদের পাশের পাড়ায়,আজ খেলা হছে
সকাল হতেই,
সবাই যাবে দেখতে,কেউ বা খেলতে,
কোথাও যাত্রাপালা,ম্যাজিকের আসর,
বিনু এসব কিছুই দেখবেনা,
সে আজ মনের খুশীতে,
নিজের আনন্দে,নিজের ছন্দে-
খাঁচা ভেঙে  বেড়িয়ে পড়তে চায়,
সবার মাঝে-
বিনিপয়সায় দেশের কাজ করবার আনন্দে-
“সারে জাঁহাসে আচ্ছা, হিন্দোস্তা হামারা”,
মনের খুশীতে, নিজের ছন্দে,বিনিপয়সায়;
বন্দেমাতরম বলে-
দেশের কাজ করবার আনন্দে-
“সারে জাঁহাসে আচ্ছা”, প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রে।।

 

কবি পরিচিতিনীলাঞ্জন চ্যাটার্জী,পশ্চিমবঙ্গ .বিশিষ্ট আইনজ্ঞ,নট- নাট্যকার মিহির কুমার চট্টোপাধ্যায় ও সাহিত্য – শিল্প অনুরাগিনী নিয়তি চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় – এর সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ কলেজ জীবনের প্রারম্ভেই।
সেই সময় থেকেই, “ভারতবর্ষ”, “দিশারী”  সহ নানা পত্রিকায় কবির, কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে।
কবি, বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
পেশার বাইরে সেবামুলক কাজের জন্য স্থাপন করেছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
ডাঃ চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত লেখা, সংবাদপত্রে ও “প্রসাদ” পত্রিকায়  ইতিপূর্বে অনেকবার প্রকাশিত হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here